চট্টগ্রামে শিশু ধর্ষণ: অভিযুক্ত মনির কারাগারে
আপলোড সময় :
২৩-০৫-২০২৬ ০৪:০১:৫৮ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২৩-০৫-২০২৬ ০৪:০১:৫৮ অপরাহ্ন
অভিযুক্ত মনির
বাংলা রিলিজ ডেস্ক: চট্টগ্রাম নগরীর দক্ষিণ বাকলিয়া এলাকায় চার বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত মনির হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী শিশুটি বাবা। এ ঘটনায় মনির দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেওয়ার পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার (২২ মে) বাকলিয়া থানায় মামলাটি করার পর বিকেলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান মামলার একমাত্র আসামি মনির হোসেনকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত–১ এর বিচারক আবু বকর সিদ্দিকের আদালতে হাজির করলে মনির হোসেন ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।
গ্রেপ্তার মনির হোসেন কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার বাখরাবাদ গ্যাস ফিল্ড এলাকার ঘারঘাটা গ্রামের সোনামিয়া বাড়ির বাসিন্দা। বর্তমানে নগরের বাকলিয়া এলাকার মিয়াখান নগরে বসবাস করছিলেন।
নগর পুলিশের উপ–কমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন মো. কবির ভূইয়া শুক্রবার দুপুরে সাংবাদিকদের বলেন, শিশুটির বাবা গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় ছিলেন এবং মা ছিলেন গার্মেন্টসে। তারা কেউ বাসায় না থাকলে এ দম্পতির তিন সন্তান তাদের নানীর কাছে থাকে। এ সুযোগে সন্দেহভাজন মনির কৌশলে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা বা ধর্ষণ করেছে। তবে বিষয়টি মেডিকেল প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পুলিশের ওপর হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হামলায় ৩০/৩৫ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে একটি মামলা হবে।
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে নগরের বাকলিয়া থানাধীন ১৯ নম্বর দক্ষিণ বাকলিয়া ওয়ার্ডের আবু জাফর রোড চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় ওই শিশুকে স্থানীয় ডেকোরেটের কর্মচারী মনির হোসেন ধর্ষণ করেছে বলে এলাকায় খবর ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ বালুরমাঠ সংলগ্ন একটি গোডাউন কক্ষ থেকে অভিযুক্ত মনির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে।
ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত মনিক আটক করে পুলিশ থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় বিকেল চারটার দিকে পুলিশের গাড়ি আটকে দফায় দফায় বিক্ষোভ শুরু করে স্থানীয় লোকজন। একপর্যায়ে পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনিয়ে নিতে চান বিক্ষুব্ধ স্থানীয় জনগণ। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় জনগণের সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলে। এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ দফায় দফায় বিক্ষুব্ধ জনগণকে ধাওয়া করে এবং টিয়ার শেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে। এ সময় ৩০ জন পুলিশ সদস্য ও ৪ সাংবাদিক আহত হন। পরে রাত সোয়া ১০টার দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। এসময় উত্তেজিত জনতা পুলিশবাহী কয়েকটি পিকআপ ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় পুলিশ ছয় থেকে সাত ঘণ্টা অবরুদ্ধ ছিল।
রাতে কক্সবাজার মহাসড়কের বাকলিয়া অংশ অবরুদ্ধ করে পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে সড়কে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকে বিক্ষুব্ধরা। রাত প্রায় দেড়টার দিতে পরিস্থিতি শান্ত হয়। আহত পুলিশ সদস্যরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বাকলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, চার বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মনিরকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হলে তিনি ঘটনার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনায় ৩০ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তারা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। পুলিশের গাড়ি থেকে ব্যাটারি চুরি ও হামলার অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
মামলার ব্যাপারে ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বলেন, শুধুমাত্র ধর্ষক মনির হোসেনকে আসামি করে আমি বাকলিয়া থানায় মামলা করেছি।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Bangla Release 24
কমেন্ট বক্স